স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগে বাঁধা, নেপথ্য রহস্যের বেড়াজালে যুধিষ্ঠির সাহা হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল
স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগে বাঁধা প্রদান

বিশেষ প্রতিবেদন ৬ই জানুয়ারি শিলচর —- একদা বৃহত্তর বিক্রমপুর তথা কাঠিগড়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হতো বিহাড়া বাজার যুধিষ্ঠির সাহা হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল , অন্যদিকে অবিভক্ত বিক্রমপুর গাঁও পঞ্চায়েত এলাকা পরিচিত ছিলো একটি শিক্ষিত পঞ্চায়েত হিসেবে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সমাজের দিক নির্দেশনা দিতেন। কিন্তু আজ নেই সেই সমাজের প্রতিনিধি গণ,সবাই পরপারের আস্তানায় চলে গিয়েছেন। ঠিক তদ্রুপ এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের ভুমিকা পালন করতে দেখা গেছে প্রয়াত শীতল চক্রবর্তী, প্রয়াত সুশীল চন্দ্র শিকদার কে। এখানে উল্লেখ্য যে প্রয়াত সুশীল চন্দ্র শিকদারের সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের শৈক্ষিক পরিবেশ আজ ও প্রাক্তনীদের মনে গেঁথে আছে, প্রশাসক বা প্রধান শিক্ষকের নিয়মানুবর্তিতা এবং কর্তব্য নির্বাহ কি ভাবে করতে হয় তাঁর জলন্ত প্রমাণ ছিলেন তিনি। ঘড়ির কাঁটা দশ টা বাজার আগেই প্রধান শিক্ষক তার নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবেশ করতেন,কি শিক্ষক কি ছাত্র নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হতেন। ভুল করলে কারও রেহাই নেন , শ্রেণী কক্ষে বিষয় শিক্ষক আছেন কি না বা কোন ছাত্র কি করছে হাতে সুন্দি বেত নিয়ে স্কুল চত্বরে ঘুরতেন। কিন্তু আজ এসব ইতিহাস হয়ে গেছে। এখানে উল্লেখ্য যে প্রয়াত সুশীল চন্দ্র শিকদারের অবসর গ্রহণের পর আরও বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন তার মধ্যে হিমাংশু শেখর ঘোষ,চির রঞ্জন দে, সুশান্ত নাথ, মোহিত রঞ্জন চক্রবর্তী প্রমুখ ছাড়া ও কল্যাণ দেশ মুখ্য মহাশয় সাময়িক ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে স্থায়ী অধ্যক্ষ হিসেবে মণিদীপা শিকদার ও এই প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্বাহ করেছেন। এরপর থেকেই সম্ভবত শনির কোপ পড়েছে এই প্রতিষ্ঠানের উপর। আনুমানিক বছর সাতেক ধরে একাডেমিক ইনচার্জ হিসেবে একজন কে হাইয়ার সেকেন্ডারি দেখভাল আরেক জন কে হাইস্কুল সংক্রান্ত দেখভাল করার দায়িত্ব স্কুল পরিদর্শক চালু করেন এবং স্কুল পরিদর্শক নিজেকে অধ্যক্ষ হিসেবে রেখে স্কুলটির শৈক্ষিক তথা প্রশাসনিক ব্যবস্থা কে হিমঘরে ঠেলে দিয়েছেন বললে অত্যুক্তি হবে না এমনটাই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সমাজসেবী ও অভিভাবক তারা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন বর্তমানে যে স্কুল পরিচালনা কমিটি আছে তা জনৈক শিক্ষকের পছন্দের কমিটি, যিনি সভাপতি আছেন তার কোনো মাথাব্যথা নেই। এদিকে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র কমিটি ও গঠন করা হয় জনৈক শিক্ষকের পছন্দের মানুষ দিয়ে, কোনো নির্দেশিকা ছাড়াই, এদিকে সেটিং ফিটিং ফর্মুলায় চলছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি পি এম শ্রী প্রকল্পের কাজ চলছে স্থানীয় সন্দীপ চক্রবর্তী,রাধু দেব ও সমীরন দাস সহ জনাকয়েক ব্যাক্তি ঐ প্রকল্পের কাজ নিম্ন মানের হচ্ছে বলে প্রতিবাদ করায় ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে আসে, উঠে আসে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগে কেনো বাঁধা প্রদান করা হয়েছে, তাহলে কি সেটিং ফিটিং ভেস্তে যাবে বলে কি বিগত ১৯ -০৭-২০২৫ তারিখের সেকেন্ডারি এডুকেশন এর সঞ্চালকের অর্ডার কেনো কাছাড়ের স্কুল পরিদর্শক কার্যকর করেন নি? তাঁর নেপথ্য রহস্যের কারন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে একাংশ সচেতন নাগরিক মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ্যআগামী কাঠিগড়া সফরে তুলে ধরবেন বলে এক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। এদিকে অন্য এক সুত্রে জানা গেছে বিগত ১৯-০৭-২০২৫ এর আদেশ কে বাতিল করতে বিহাড়া বাজার এলাকার একাংশ বিশিষ্ট সমাজসেবী ও বুদ্ধিজীবী জনৈক বিধায়ক কে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রী মাননীয় রণোজ পেগু মহাশয়ের দ্বারস্থ হয়ে এই নিয়োগ কে কার্যকর না করতে সুপারিশ করেন এমটাই তথ্য এই প্রতিবেদককে তুলে দেন। যার ফলে এই প্রতিষ্ঠানের শৈক্ষিক পরিবেশ ও সুনাম ধুলায় মিশিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী গণ। তারা বলেন সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এই স্কুলের মুখরোচক সংবাদ তখন মনে আঘাত লাগে। তারা স্থানীয় দেশবন্ধু ক্লাব সহ বিক্রমপুর পরগনার বর্তমান সমাজসেবী ও বুদ্ধিজীবী এবং অভিভাবকদের নিয়ে এক সাধারণ সভা আহ্বান করতে ক্লাব কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন অন্যদিকে কাছাড় জেলার স্কুল পরিদর্শক কে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।




